1. ahekram2006@gmail.com : ah ekram : ah ekram
  2. asadmd7195@gmail.com : JB Admin : JB Admin
  3. janatarbartabd24@gmail.com : jb editor : jb editor
আনোয়ারা উপকূলে ইলিশ কিনতে ঘাটে মানুষের ভিড়! জনতার বার্তা - দৈনিক জনতার বার্তা
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

আনোয়ারা উপকূলে ইলিশ কিনতে ঘাটে মানুষের ভিড়! জনতার বার্তা

শেখ আবদুল্লাহ, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শেখ আবদুল্লাহ, আনোয়ারা (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

ইলিশের প্রতি মানুষের যে দুর্বলতা তা থেকেই ভালোমতো বোঝা যায় কেন একে জাতীয় মাছ বলে রায় দেয়া হয়েছে। স্বাদে অনন্য এই মাছ পুষ্টিগুণেও অন্যান্য মাছকে হার মানাতে পারে সহজে। প্রোটিনের উৎস ইলিশ।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় তাজা ইলিশ কিনতে সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকার ঘাটগুলোয় ভিড় করছেন লোকজন। ক্ষতিকর উপাদান ও বরফ ছাড়া ঘাটে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনতে পেরে একদিকে খুশি ক্রেতারা; অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি ইলিশ বিক্রি করতে পারায় লাভবান হচ্ছেন জেলেরাও। তবে ক্রেতার কাছে সরাসরি জেলেদের এই মাছ বিক্রিতে বিপাকে পড়েছেন ইলিশের মৌসুমি ব্যাপারীরা।

আনোয়ারা উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, উপকূলে ৬০০টি মাছ ধরার নৌকা আছে। এর মধ্যে উঠান মাঝির ঘাটে ২৮০টি,সাত্তার মাঝির ঘাটে ৪৫টি, ফকিরহাটে ১৭০টি,গলাকাটা ঘাটে ৩৫টি, পিচের মাথায় ৩৫টি ও বাছা মাঝির ঘাটে ৪০টি। অন্য নৌকাগুলো পারকি ও জুঁইদণ্ডী এলাকার। উপকূলের প্রায় দশ হাজারের বেশি জেলে। ইলিশ ধরছেন গভীরসমুদ্রে।

গতকাল বুধবার আনোয়ারা সমুদ্রের উপকূলে উঠান মাঝির ঘাটে ও সাত্তার মাঝির ঘাট দুটি ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ কিনতে সেখানে ভিড় করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত মানুষ। জোয়ার-ভাটা হিসাব করে সকাল ও বিকেল দিনে দুবার ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে এসব ঘাটে। ইলিশ নিয়ে নৌকা আসতেই হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো ঘাট এলাকা। নৌকায় থাকতেই ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা ইলিশ বিক্রির তোড়জোড় শুরু হয়। দর-কষাকষি চলে ক্রেতা-বিক্রেতার। এখানে মাছ ওজন মেপে বিক্রি হয় না। ঝুড়িসুদ্ধ মাছের ওজন অনুমান করে দর দেন জেলেরা। উন্মুক্ত দর-কষাকষি চলে। যাঁর দর বেশি ওঠে, তিনি পান মাছ। মাছের আকার ও ওজন অনুপাতে ঘাটে প্রতি ঝুড়ি মাছ এক হাজার থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়।

গতকাল সকালে উঠান মাঝির ঘাটে কথা হয় আনোয়ারা হাইলধর ইউনিয়ন থেকে ইলিশ কিনতে আসা জসিম উদ্দীন সঙ্গে। সাত হাজার টাকায় একটি ও চার হাজার টাকায় একটি ঝুড়ি ইলিশ কিনেছেন তিনি। জানতে চাইলে বলেন, ‘ঘাটে সরাসরি ইলিশ কেনা যায় বলে বাজারের তুলনায় দাম কিছুটা কম পড়ে। তা ছাড়া ফরমালিন ও বরফ ছাড়া তাজা ইলিশের নিশ্চয়তা তো আছেই। আমার কেনা দুই ঝুড়িতে ২৫ থেকে ৩০ কেজি ইলিশ হবে। নিজেরা খাব। আত্মীয়দেরও দেব কিছু।’

ঘাটে ইলিশ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে সাত্তার মাঝি ঘাটের আপন জলদাস বলেন, ‘আমরা যারা সমুদ্রে মাছ ধরি, তারা ঘাটেই বিক্রি করি। এ নিয়ম চিরকালের। আগে ঘাটে সাধারণ মানুষ আসত না। তাই একতরফা দামে ব্যাপারীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হতো। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ মাছ কিনতে আসে ও মৌসুমি ইলিশ ব্যবসায়ী আসে ঘাটে। এতে কিছুটা বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে পারি আমরা। তবে যাদের দাদন নেওয়া আছে, তাদের দাদনদারের হাতেই কম দামে মাছ তুলে দিতে হয়।’

আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী বাজারের মৌসুমি ইলিশ ব্যবসায়ী মো. মিন্টু। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের টানাটানিতে এ বছর ঘাটে কোনো ইলিশই কেনা যাচ্ছে না। ইলিশ কিনতে প্রত্যেক ঘাটে কয়েক শ মানুষ ভিড় করছেন প্রতিদিন। বরফ, গাড়িভাড়াসহ ব্যবসায়ীদের যা খরচ হয়, তাতে সাধারণ ক্রেতাদের দামে ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে পারেন না। তাই এবার অনেক ইলিশ ব্যবসায়ী ঘাটেই যাচ্ছেন না।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© ২০২০ সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক জনতার বার্তা বিডি পরিবার
কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম