1. ahekram2006@gmail.com : ah ekram : ah ekram
  2. asadmd7195@gmail.com : JB Admin : JB Admin
  3. janatarbartabd@gmail.com : jb editor : jb editor
ঘরে বসেই নিরবের আয় লাখ টাকা - দৈনিক জনতার বার্তা
সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩০ অপরাহ্ন

ঘরে বসেই নিরবের আয় লাখ টাকা

বিপ্লব দাশ, চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

বিপ্লব দাশ, চকরিয়া প্রতিনিধিঃ

একটু দুরদর্শিতা, পরিশ্রম ও ধৈর্য বদলে দিতে পারে অনলাইন এবং অফলাইন জীবন। যে কেউ সময়ের সঙ্গে লক্ষ্য ঠিক রেখে চেষ্টা করলে হতে পারবে সেরা ফ্রিল্যান্সার। লক্ষ্য অটুট থাকলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও মিলবে সফল ফ্রিল্যান্সারের মর্যাদা। এমনই একজন তরুণ হচ্ছে নিরব কুমার দাস।

বয়স যখন পনেরো পার হয়নি, তখনই তার স্বপ্ন বুনন। সময়টা ২০১৪ সাল। এ বয়সেই নিজে কিছু করার ইচ্ছা থেকে ফ্রিল্যান্সিং জগতে ঢুকে পড়েন। যদিও শুরুর অভিজ্ঞতাটা একটু ভিন্ন। মুখোমুখি হতে হয় নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির। তবুও হাল ছাড়েননি নিরব দাস।

দীর্ঘ ছয় বছরের কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য। সঙ্গে একটু একটু এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা তাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেস ফাইবার এবং আপওয়ার্কের টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছে।

নিরবের স্বপ্ন কর্মহীন বেকার যুবকদের জন্য কিছু করা। গ্রামের স্বল্প আয়ের পরিবারে বেড়ে ওঠা তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং পেশায় দক্ষ করে তুলে বেকার সমস্যা ঘোঁচানোর পথ দেখাতে তার আগ্রহের কমতি নেই। তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে উদ্বুদ্ধ করতে নিজ গ্রামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরি হচ্ছে।

এছাড়াও অনলাইনে ‘Nirob Kumar Das’ নামে ফেসবুক আইডি সবাই হয়তো কম বেশি চেনেন। সেখানে লাইভ ক্লাস নেয়ার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ খুব শিগগিরই একটি বৃহৎ কর্মকাণ্ডে রূপ নেবে বলে আশাবাদী নিরব দাস।

২০১৭ সালে একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তখনই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জগতটা বাড়তে থাকে তার। সেখানে বিনা বেতনে দুই বছর চাকরি করার পর ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পান। চাকরিরত অবস্থায় দাস ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেস ফাইবার ও আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খুলে টুকটাক কাজ চালিয়ে যান। এরপর ২০১৮ সালে চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করেন।

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের কালীগ্রাম ডাকাহারের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিরবের। আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথমধাপের শিক্ষাজীবন চুকিয়ে ভর্তি হন আবাদপুকুর মহ্যাবিদ্যালয়ে।সেখান থেকে আই.এ পাস করেন। এরপর প্রথম ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে গুগল ও ইউটিউব ঘাঁটাঘাঁটি করতে থাকেন। দিনে দিনে অনেক কিছুই তার রপ্ত হতে থাকে।

নিরব বলেছেন, প্রথম দিকে কোনো কিছু বুঝতেপারতাম না। ইন্টারনেটে গুগল, ইউটিউব ঘেঁটে ঘেঁটে শিখতে লাগলাম। কিন্তু সফলতার থেকে ব্যর্থতার ঝুলিটাই বড় হতে লাগলো। একটু হতাশ হয়ে গেলাম। তবে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসিনি। এখনকার মতো তখন এতো কোর্সের ব্যবস্থাও ছিল না। অনেক ইচ্ছে ছিল ওয়েভ-ডেভেলোপমেন্ট-এর ওপর কাজ করব। কিন্তু সেটাতে খুব বেশি সফলতা না আসায় ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ওপর কাজ করতে থাকি। এরপর পর্যাক্রমে এসইও-এর ওপর কাজ শিখে সেটির ওপর কাজ চালিয়ে যাই।

নিরব দাস ফ্রিল্যান্সার জানান, আগামীর বাংলাদেশ হবে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর। এজন্য সামনের দিনগুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং-এর গুরুত্ব অনেক বেশি। করোনা মহামারির কারণে দেশের মানুষ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং কাজের ক্ষেত্রে ঝুঁকে পড়ছে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে করে নিরবের পরামর্শ, ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। নিজেকে ঠিক করে নিতে হবে কোন বিষয়ে আপনি দক্ষ। যে বিষয়ের ওপর আপনি কাজ করতে আগ্রহী সেই বিষয়ের ওপর ভাসা-ভাসা ধারণা নিয়ে মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করা সম্ভব নয়। এতে হতাশ হতে হবে। এজন্য দক্ষতা অর্জন এবং ধৈর্য ধারণের বিকল্প নেই বলে মনে করেন নিরব কুমার দাস ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
© ২০২০ সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক জনতার বার্তা বিডি পরিবার
কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম