1. ahekram2006@gmail.com : ah ekram : ah ekram
  2. asadmd7195@gmail.com : JB Admin : JB Admin
  3. janatarbartabd@gmail.com : jb editor : jb editor
বিএনপি নেতাকে শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বসাতে ফের তৎপর সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা - দৈনিক জনতার বার্তা
সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

বিএনপি নেতাকে শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বসাতে ফের তৎপর সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা

শাহ জামাল, পেকুয়া কক্সবাজার
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
শাহ জামাল,  পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এক বিএনপি নেতাকে বসাতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। ইতিমধ্যে ওই বিএনপি নেতা টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২২ এপ্রিল শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই কাউন্সিলে কাউন্সিলর না হয়েও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বিশেষ তৎপরতায় সভাপতি প্রার্থী হন শিলখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান চৌধুরী। একপর্যায়ে কাউন্সিলে সভাপতিও নির্বাচিত হয়ে যান আসাদুজ্জামান।
কাউন্সিলের পরপরই আসাদুজ্জামান সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরের দিন ২৩ এপ্রিল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ‘বিএনপি নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের নির্দেশে ওই দিন দুপুরে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেই কমিটি বাতিল করতে বাধ্য হন। কমিটি বাতিলের সেই সংবাদ মুজিবুর রহমানের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, আসাদুজ্জামানের কমিটি বাতিল করলেও গোপনে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম ও জেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক গঠিত পেকুয়া উপজেলার সাংগঠনিক টিম প্রধান রেজাউল করিমের সঙ্গে আসাদুজ্জামান যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এমনকি ওইসব নেতাদের সঙ্গে নানা ভঙ্গিমায় ছবি তুলে জানান দিচ্ছেন সেই সব নেতারা তাঁর পক্ষে রয়েছেন। ইতিমধ্যে গত ২ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পেকুয়া উপজেলার নবনির্বাচিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকদের সঙ্গে সাংগঠনিক টিমের মত বিনিময় সভায় রেজাউল করিম ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি বহাল করা হবে’। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতারা। ওই সভায় আসাদুজ্জামানের ভূয়া সদস্য ফরম পূরণের কথাটি উঠেছে বলে জানা গেছে। ওই সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের প্রধান রেজাউল করিম পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সদস্য ফরমটি যাচাই বাছাইয়ের দায়িত্ব দেন। এ প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে ৭জুলাই অনুষ্ঠিতব্য পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হবে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলেন, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শিলখালী স্কুল স্টেশনে ইউনিয়ন যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উপলক্ষে যুবদল বিভিন্ন এলাকায় অতিথিদের নাম সম্বলিত বিভিন্ন পোস্টার সাঁটাই করে। সেই পোস্টারে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে আসাদুজ্জামনকে সম্মানিত অতিথি করা হয়। পরবর্তীতে মনিরুল কবিরকে সভাপতি ও আবু ছিদ্দিককে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠিত হলে সেই কমিটিতে সহসভাপতির পদ পান আসাদুজ্জামান। ২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারি শিলখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক টিম গঠিত হলে সেই কমিটির সদস্য ছিলেন আসাদুজ্জামান। ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি শিলখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে ১৫ নম্বরে আসাদুজ্জামানের নাম রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের ২৯ মে শিলখালী ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন মাস্টার জোবায়ের আহমদ, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আছহাব উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিক। পরে ওই বছরের  ২০ আগস্ট ১০১ সদস্য বিশিষ্ট শিলখালী ইউনিয়ন বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে ৯৩ নম্বরে সম্মানিত সদস্য করা হয় আসাদুজ্জামানকে। এ প্রসঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার জোবাইর আহমদ বলেন, ‘আসাদুজ্জামান চৌধুরী যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পদবীতে ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট গঠিত কমিটিতেও সম্মানিত সদস্য ছিলেন আসাদুজ্জামান। তবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর তিনি আমাদের কোনো মিছিল-মিটিং ও সভা-সমাবেশে অংশ নেননি।’
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলেন, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন আসাদুজ্জামান। যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলন ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিএনপির হরতাল অবরোধে স্বশস্ত্র অবস্থায় আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। হরতাল-অবরোধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আসাদুজ্জামান সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনকারী একজন ব্যক্তিকে জেলা-উপজেলার নেতারা মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বসাতে তৎপর হন। একপর্যায়ে তাঁরা সফলও হয়ে যান। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই কমিটি বাতিল করতে বাধ্য হয় জেলা আওয়ামী লীগ।
তবে শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল বা স্থগিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান। তিনি দাবী করেন, জেলা আওয়ামী লীগ শিলখলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল বা স্থগিত করেননি। আমি কোন সময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না। আওয়ামী রাজনীতিতে আমাকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্র। যারা এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে আমি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করব।
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আশঙ্কা, আজ ৭ জুলাই পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামানকে সভাপতি ঘোষণা করতে পারেন। কারণ গত এক মাস ধরে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান চৌধুরী মোটাংকের টাকা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বাসায় বাসায় ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলমের বাসায় নিয়মিত যাচ্ছেন।
এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের প্রধান রেজাউল করিম বলেন, ‘শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পর সভাপতি পদ নিয়ে তৃণমূলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ এই কমিটি স্থগিত করে। এখন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নতুন করে যে সিদ্ধান্ত দিবে সেই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হবে।’ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পদবী নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় একজন নেতা কিভাবে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নির্বাহী দায়িত্ব পায়? এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বৃহৎ পরিসরের একটি রাজনৈতিক দল। এখানে কেউ যদি এই দলের মূলনীতিতে আকৃষ্ট হয়ে রাজনীতি করতে চায় তাহলে তাঁর জন্য দরজা খোলা। এখন যেহেতু শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু এই ব্যাপারে কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত দিবে আমরা সে মোতাবেক কাজ করব।’
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ড. আশরাফুল ইসলাম সজিব বলেন, মূলত সাংসদ জাফর আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামানকে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে সাংসদ জাফর আলমের ছেলে তানভীর আহমদ ছিদ্দিকী তুহিন ‘আসাদুজ্জামান কর্তৃক আওয়ামী লীগের সদস্য ফরম পূরণ সংক্রান্ত’ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেই সদস্য ফরমটি ছিল ভূয়া। আওয়ামী লীগের সদস্য ফরমে উপরে লেখা থাকে ‘বাম পাশে জয় বাংলা, মাঝখানে আল্লাহ সর্বশক্তিমান, ডানে জয় বঙ্গবন্ধু। আর এমপির ছেলের শেয়ার করা আসাদুজ্জামানের ফরমের বামপাশে জয় বাংলা, মাঝখানে আল্লাহু আকবর, ডানপাশে জয় বঙ্গবন্ধু। সেই স্ট্যাটাসটিতে দাবি করা হয় আসাদুজ্জামান ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের সদস্য ফরম পূরণ করেছেন। একজন বিএনপির নেতাকে আওয়ামী লীগের নেতা বানাতে সেই কি তোড়জোর! ব্যাপারটি সত্যি লজ্জার।
বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রসঙ্গে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ জাফর আলম বলেন, ‘আমি চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চকরিয়া-পেকুয়ার এমপি’র দায়িত্বে রয়েছি। পেকুয়ার আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়াতে জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি স্থগিত করেছে। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগই সিদ্ধান্ত দিবে কমিটি থাকবে নাকি নতুন করে সম্মেলন হবে।’
শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ও পূর্বের কমিটির ভারপ্রাপ্ত সমভাপতি খানে আলম বলেন, ‘আসাদুজ্জামানের মতো প্রতিষ্ঠিত একজন বিএনপির নেতাকে কি কারণে আমাদের দলের নেতারা সভাপতি বানাতে চায় বুঝে আসছে না। মূলত অন্যদল থেকে যাঁরা আওয়ামী লীগে স্থান নিতে চায়, তাঁরা মোটাংকের টাকার মিশন নিয়ে নামে। আর প্রকৃত ও ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতারা তো পদের জন্য একটি কানাকড়িও খরচ করতে পারে না। একারনে আমাদের নেতাদের কাছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের কদর বেশি। ’

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
© ২০২০ সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক জনতার বার্তা বিডি পরিবার
কারিগরি সহায়তায় রাফিউল ইসলাম